মরুভূমির প্রখর রোদে জন্মানো খেজুরকে অনেকে বলেন "প্রকৃতির ক্যান্ডি" — কিন্তু পুষ্টিবিদরা বলেন এটি প্রকৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার। প্রাচীনকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলে খেজুর ছিল প্রধান খাদ্য; সেখানেই প্রমাণ মিলেছে দীর্ঘদিন নিয়মিত খেজুর খাওয়া মানুষের শরীরে কী কী ভালো করে।
| উপাদান | যা করে |
|---|---|
| প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ-ফ্রুক্টোজ) | দ্রুত ও টেকসই এনার্জি |
| খাদ্য আঁশ (ফাইবার) | হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে |
| পটাশিয়াম | রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক |
| ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম | হাড় ও পেশির যত্ন |
| আয়রন | রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক |
| অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট | কোষের ক্ষয় ধীর করে |
এনার্জির সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উৎস। ২-৩টি খেজুরে যে চিনি থাকে তা ফল থেকে আসা, সাথে আঁশ ও খনিজও থাকে — তাই এর এনার্জি "ক্র্যাশ" করায় না, ধীরে ছাড়ে। সকালে খালি পেটে খেজুর অনেকের প্রিয় শুরু, আবার ব্যায়ামের আগে-পরে দ্রুত এনার্জির জন্যও দারুণ।
হজমশক্তির যত্ন। খেজুরের আঁশ অন্ত্রের কাজ সচল রাখে। নিয়মিত খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটাই কমে যায়, পেট পরিষ্কার থাকে। প্রতিদিন রাতে ২টি খেজুর পানিসহ — এটি একটি সহজ অভ্যাস যার উপকার কয়েকদিনেই বোঝা যায়।
রোজার পর সবচেয়ে স্বাভাবিক খাবার। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীরে দ্রুত চিনির প্রয়োজন হয় — খেজুর ঠিক তা-ই দেয়, সাথে পটাশিয়াম দিয়ে পানিশূন্যতার ভারসাম্যও ফেরায়। এজন্যই সুন্নাহতে রোজা খেজুর দিয়ে ভাঙার প্রস্তাব রয়েছে এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও তা সমর্থন করে।
জাত যা-ই হোক — ভালো খেজুর চেনার মানদণ্ড এক: মাংসল, রসালো, চিনির পাউডার ছাড়া, প্রাকৃতিক সুগন্ধযুক্ত।
খেজুর এয়ারটাইট বয়ামে ঠান্ডা-শুকনো জায়গায় মাসের পর মাস ভালো থাকে। গরমে ফ্রিজে রাখলে আরও টেকসই হয়। পচা বা অতিরিক্ত শুকনো দানা বাদ দিয়ে রাখুন; ভেজা চামচ দিয়ে বয়ামে হাত দেবেন না — আর্দ্রতা পেলে ছাঁট ধরতে পারে।
ছোট এক ফলে এনার্জি, আঁশ, খনিজ আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট — খেজুর সত্যিই আশীর্বাদপুষ্ট খাবার। তবে উপকার পেতে হলে খাঁটি ও পরিমাণে সঠিক খাওয়াটাই মূল কথা।
আজওয়া, মরিয়ম ও আজুয়া খেজুর এক জায়গায়
দোকানে যান